অশ্লীল ১৮+ এডাল্ট বই PDF Download

(New) চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ PDF Download | Chaitanya Charitamrita Book in Bengali PDF Download

আজকে আমরা আপনাদের কে চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ PDF Download | Chaitanya Charitamrita Book in Bengali PDF Download লিংক দিবো।

বইঃ চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ PDF Download | Chaitanya Charitamrita Book in Bengali PDF Download

টাইপঃ হিন্দু

সাইজঃ ৩ এম্বি

Download PDF (7.62 MB)

Download PDF (7.06 MB)

Download PDF (7.23 MB)

Download PDF (7.19 MB)

Download PDF (7.29 MB)

Download PDF (7.10 MB)

Download PDF (4.73 MB)

অজানাকে জানার প্রতি মানুষের আগ্রহ চিরদিনের। মানুষ তার অজানাকে জানার তীব্র কৌতুহল মেটাতে পাড়ি জমায় মুসাফির বেশে শত শত মাইক দূরের দেশে।
.
এই জাতীয় অজানা বিষয় সম্পর্কে জানার এই অদম্য কৌতুহল ও আকাঙ্খা অনেক সময়ই মানুষকে ভুল পথে ধাবিত করে। কারণ কৌতুহলের বিষয়টি মানুষের সম্পূর্ণ অজানা। আর এই অজানা বিষয়ে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাও অগণিত। অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থান্বেষী মহল সেই তথ্য উপাত্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিকৃত করে। ফলে অজানাকে জানা আর হয়ে উঠে না, জানা হয় এক বিকৃত ইতিহাসের পাঠ।
.
প্রতিটি শতাব্দীর এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ ও কৌতুহল থাকে আকাশচুম্বী। এই কৌতুহল সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত অনেক সময়-ই হয়ে থাকে চরম পক্ষপাতদুষ্ট। এই ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ার অবদান অভাবনীয়, অচিন্তনীয়। এই সকল মিডিয়া যেন মিথ্যাচারের পসরা সাজিয়ে বসে। এউ সমাজের প্রতিটি সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার পরিধি ও বিস্তৃতি পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে এই সকল মিডিয়া। একইভাবে একজন মানুষকে সাধারণ মানুষের চোখের শূল বানাতে তাদের জুড়ি মেলা ভার।
.
চোখের শূল বনে যাওয়া সেই মানুষটি তার জীবদ্দশায় বাস্তবিক অর্থে কেমন ছিল, আর মিডিয়া তাকে কীভাবে উপস্থাপন করেছে তার মধ্যে রয়ে যায় আসমান জমিনের ন্যায় বিশাল ব্যবধান। আরও রয়েছে সত্যের সাথে অগণিত মিথ্যার সংমিশ্রণ। হলুদ মিডিয়া কর্তৃক প্রচার করা সেই মিথ্যাকে যাচাই করার সুযোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে না। কেননা সাধারণ মানুষ সর্বদাই সাধারণ হয়।
.
এই সকল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার এরূপ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ উ সা মা বিন লা দে ন। কিছু বুঝতে পারলেন? না পারাটাই স্বাভাবিক। আমি জোর দিয়েছি মূলত তার নামটার উপর-ই। এই জাতীয় পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ার চক্রান্তের দরুন একজন মানুষের নামটাও আপনি পরিপূর্ণভাবে লিখতে পারবেন না। এটাই তাদের দ্বিমুখীতা ও স্বেচ্ছাচারি চিন্তাধারার সর্বোত্তম নিদর্শন।
.
এই নামটি স্বাভাবিকভাবে লিখলে আপনার আইডি রিস্কে পড়ে যেতে পারে, আপনাকে কেউ কেউ স ন্ত্রা স বা দী ট্যাগ দিয়ে দেবে। এমনকি এই নাম উচ্চারণ কিংবা পূর্ণাজ্ঞরূপে লেখার কারণে, কিংবা উপরোক্ত নামের এই মানুষটিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করার কারণে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেই খারেজী ও জ ঙ্গী তকমাও পেতে হতে পারে। অথচ তাদের কোন ধারণাই নেই মানুষটি সম্পর্কে। আমি অধমের এই বইটি সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনকিছু না বলার পরও হয়ত এই জাতীয় ট্যাগ অতিসত্বর হজম করতে হতে পারে।
.
সত্যি বলতে, এইরূপ ট্যাগাট্যাগি বর্তমান সময়ে মরুভূমিতে প্রবল তৃষ্ণার্তের কাছে পানি পাওয়ার ন্যায় উপযোগ তৈরি করে। এই মুহূর্তে যাদের নুনসহ পানির প্রচুর প্রয়োজন তারা চাইলে ট্যাগ দিতেই পারেন। আমার কিছু যায় আসে না। তবে এইটুকু বলব, অন্তত সেই মহান সত্তার কাছে জবাবদিহি করার ভয় করুন, যার হাতে আমার ও আপনার প্রাণ।
.
আমাদের তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে আজকাল ভীনদেশীয় টিভি সিরিজের প্রতি এক প্রচণ্ড হিড়িক তৈরি হয়েছে। এই প্রজন্মের একটি দল আছে যারা প্রচণ্ডরকম সিরিজ ভক্ত। এই প্রজন্ম যে জনরার সিরিজ দেখে তার অধিকাংশ হচ্ছে ক্রাইম থ্রিলার। যদিও সেই সিরিজগুলো দেখতে তাদের অন্তরে কোন প্রকার ভাব আবেগ সৃষ্টি না। কিন্তু উপরোক্ত মানুষটির নাম শুনলে তাদের মনে একটি প্রবল নেতিবাচক মনোভাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায়।
.
যদিও সে অনেক বড় বড় স ন্ত্রা সী, মা ফি য়া, ড্রাগ ডিলার, অস্ত্র ব্যবসায়ী, ইউরেনিয়াম কারবারি, ডা র্ক ওয়েব হিউম্যান ট্রাফিকিংসহ সকল কিছুই স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মেনে নেয় কিন্তু এই মানুষটি সম্পর্কে সামান্যতম না জেনেও এক পাক্ষিক ও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। তাদের অনেকে সেই সকল সিরিজ দেখে আবেগী হয়, তার ভালো দিক ও খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে। সেই একই মানুষগুলো আবার কোনো প্রকার ধারণা ছাড়াই তাকে দোষারোপ করে।
.
আর বাস্তবতা হচ্ছে উপরোক্ত মানুষটাকে নিয়ে অনেকের ক্রেজ নেই। তার নাম শুনলেও নাক সিটকায়, তাদের তার নাম মুখে নিলেও ফেসবুক যেভাবে অন্যকে ব্রাশ করিয়ে দিতে চায়, আমাদের অনেক তরুণও তেমনিভাবে নিজেই ব্রাশ করতে উদ্যত হয়। অথচ তার সম্পর্কে তাদের ন্যুনতম ধারণা, জ্ঞান নেই। সত্যি বলতে আমার নিজেরও মানুষটি সম্পর্কে বিশদ জানাশোনা নেই। এই জন্য তো আমি অন্তত এক পাক্ষিক আচরণ করতে পারি না। এটা অন্যায়। বরঞ্চ তার সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ রাখি।
.
আমি আরও বিশ্বাস করি, মানুষটির গোটা জীবন বর্তমান তরুণদের পাথেয় ওয়েব সিরিজের থ্রিলারকে বহুবার হার মানাবে। আমার যখন আরও কিছুটা কম বয়স, যখন আমি জাহিলিয়াতের সময় পার করছিলাম, তখন মাঝে মধ্যেই শুনতাম মানুষটি আর পৃথিবীতে নেই। তাকে শহীদ করে দেয়া হয়েছে। অথচ এর কয়েক দিন পর-ই আবার তার দেখা পেতাম।
.
শেষবার যেদিন তাকে মেরে সমুদ্রে সমাধি দেয়ার খবর শুনলাম, সেদিন বন্ধুকে বলে বসলাম আরে ক’দিন পরই নতুন কোনো স্টেটমেন্ট নিয়ে হাজির হবে দেখিস। উনাকে তখনও আমি ঠিকভাবে চিনতাম না, জানতাম না। সেই সময়ে নিয়মিত এমন উড়ু খবর শোনার দরুন এমনটা মাথায় গেথে গিয়েছিল।
.
সত্যি বলতে, সোনার চামচ মুখে জন্ম নেয়া এই মানুষটা নিজেই একটি থ্রিলার মেশিন। এই মানুষটির জীবন জুড়ে রয়েছে আর দশটি সাধারণ মানুষের মতোই প্রিয়জনের প্রতি প্রবল ভালোবাসা, রয়েছে আনন্দ-বেদনা, আবেগ-অনুতাপসহ সকল মানবীয় বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ। কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা তাকে কীভাবে চিনি? তাকে কতটা জানি? এই সকল পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়া তাকে কীভাবে উপস্থাপন করে? তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় আসলে তিনি কী তেমনই? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্য হলেও বইটি পড়া উচিৎ।
.
আমরা তাকে না চিনলেও তার শত্রুরা তাকে ঠিক চিনেছে। যেন-তেন চেনা নয়, প্রকৃত চেনাই চিনেছে। আফসোস, আমরা অদ্যাবধি তাকে চিনতে পারিনি। অথচ আমরা যেই পরিচয় বিলং করি, তিনিও একই পরিচয় বিলং করেন। তবুও আমরা তার সম্পর্কে জানি না, চিনি না। সত্যি বলতে তার সম্পর্কে আমাদের থেকে অনেক বেশি চেনে পশ্চিমের মানুষজন।
.
বাস্তবতা হচ্ছে, ৯ এগারোর পর থেকে পশ্চিমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে হিড়িক পড়েছে সেটাও তার অবদান। এত কিছুর পরও আমরা তাকে চিনি না, তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখি না। তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক মূল্যায়ন পর্যন্ত করতে পারি না।
.
আমরা মূল্যায়ন না করলেও তার শত্রুরা তাকে ঠিক ঠিক চিনেছে, তাকে সমীহ করেছে এবং তার যথাযথ না হলেও কাছাকাছি মূল্যায়ন করতে পেরেছে। আফসোস, নেটিভ হয়েও যেটা আমরা পারিনি।
.
মানুষটিকে হত্যার নিমিত্তে যু দ্ধ র ত মার্কিন সি আই এ -এর বি ন লা দে ন ডিপার্টমেন্টের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল শ’ইয়ার (মূল বইয়ের লেখক) সামান্য হলেও তার ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন করতে পেরেছেন। অতিরঞ্জন কিংবা মিডিয়ার ন্যায় অতিমাত্রায় পক্ষপাতিত্ব নয়, তিনি বাস্তবে যেমন ছিলেন তেমনভাবেই তাকে প্রকাশ করেছেন বইটির লেখক মাইকেল শ’ইয়ার। তার ব্যাপারে লেখক বইটির উপসংহারে বলেছেন,
“যদিও আমি তাকে হত্যা করতে চাই, কিন্তু আমি স্বীকার করি তিনি একজন সৎ, সাহসী ও মেধাবী শত্রু। আমি তার গুণগুলোকে সম্মান করি।”
অন্য আরেকটি অংশে তিনি বলেছেন,
“প্রকৃতপক্ষে, আমাকে যদি ১০টা গুণে তাকে সংজ্ঞায়িত করতে বলা হতো তবে সেগুলি হতো: ধার্মিক, সাহসী, উদার, বুদ্ধিমান, ক্যারিশম্যাটিক, ধৈর্যশীল, জেদি, সমতাবাদী এবং সর্বোপরি বাস্তববাদী।”
.
শেষ করছি বইটির অনুবাদকের ভাষায় হৃদয় ছোঁয়া একটি উক্তি দিয়ে, “চলুন চিনে আসি সে বীরকে যাকে শত্রু চিনেছে কিন্তু উম্মাহ চিনেনি।”
.

বিশেষ_নোট: বইটি কোনো ইসলামিক লেখকের লেখা বই নয়। এটি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন অফিসারের লেখা বই। এটি বইয়ের বাংলা অনুবাদ মাত্র। বক্ষ্যমাণ বইটি না পড়ে, প্রিডিটারমাইন্ড অযাচিত মন্তব্য করে এবং সিলেক্টিভ বক্তব্য দিয়ে নিজ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। ধন্যবাদ।

See also  (New) শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা pdf download | Shrimad Bhagwat Geeta in Bengali pdf free download

বই: সাম্রাজ্যের ত্রাস
মূল: মাইকেল শ’ইয়ার
অনুবাদ: Irfan Sadik, নাঈমুর রহমান
পাবলিকেশন: ইঙ্কলাইট
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪২
প্রচ্ছদ মূল্য: ৩৪০

একজন আরজ আলী মাতুব্বর এবং মাতুব্বর রচনা সমগ্রঃ-
জ্ঞানের জগত বড়-ই অসাধারণ জগত। এখানে ভাব চলে না, চলে যুক্তি। এখানে ভালোবাসা হয় যুক্তিতে, অাবেগে নয়। সবাই জ্ঞান হজম করতে পারে না, একমাত্র প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরাই পারে। বরিশালের আরজ আলী মাতুব্বর তেমনি একজন প্রজ্ঞাবান মানুষ। যার লেখা সবাই হজম করতে পারেন না। অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী টাইপের অনেকে অাস্তিক নাস্তিক দ্বন্দ্বে গুলিয়ে ফেলেন ওনাকে। মাতুব্বর সাহেবের পরিচয় উনি একজন বই পড়ুয়া, তারপর একজন সমাজ সংস্কারক। অাপনি যেটাই বলুন না কেন, ওনার বই পড়ুয়া সত্ত্বাকে অস্বীকার করতে পারবেন না। ওনার মৌলিক প্রশ্নগুলোকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। আরজ আলী মাতুব্বরের লেখায় ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা উঠে এসেছে। তার লেখার মধ্যে সত্যের সন্ধানে, সৃষ্টির রহস্য, অনুমান এবং স্মরণিকা উল্লেযোগ্য। এসব লেখাগুলো সহ তার সমস্ত লেখাগুলো বর্তমানে আরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র নামে প্রকাশিত হয়। অার এই সবকিছু জানতে হলে অামাদের জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, ভাবতে হবে। তারপর অালোচনা করতে হবে।
তাইতো তিনি বলেছেন,
” জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে শুধু আপন বিশ্বাসই নয়, সকল মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। সকল ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা দরকার প্রতিটি জ্ঞান পিপাসু মানুষের। শুধু সীমাবদ্ধ পরিমন্ডলে আবদ্ধ হলে চলেনা। সীমানাকে অতিক্রম করে যেতে হবে ক্রমান্বয়ে। অার এর মধ্যে-ই ক্রমশ অতিক্রম করা যাবে নিজেকে।”
একজন অারজ অালী মাতুব্বরঃ-
অামাদের একজন আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন। যিনি অগাধ পান্ডিত্য আর দর্শন জ্ঞানে মাতুব্বর। যে সময়ে অক্ষর জ্ঞান নিয়ে মানুষের মাঝে টানাটানি ছিলো, তখন বিজ্ঞান, দর্শনের নানা শাখায় তার অবাধ বিচরণ। মাতুব্বর সাহেব একাধারে একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ এবং একজন লেখক। তার দর্শন-চিন্তা অনেকের নাও পছন্দ হতে পারে। কিন্তু তার অধ্যবসায় এবং জ্ঞানকে কেও অস্বীকার করতে পারবেন না। যিনি নিজ চেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অঘাট জ্ঞান অায়ত্ত করেছেন। সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও যে জ্ঞানী হওয়া যায় এরকম অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন আরজ আলী মাতুব্বর।
অামার অাজকে অালোচনার মূল বিষয় মাতুব্বর সাহেবের লেখা সমূহ। কিন্তু তার অাগে ওনাকে নিয়ে মূল যে বিতর্ক সেদিকে একটু অালোকপাত করা যাক। কথিত আছে, শৈশবে তার মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ছবি তোলার দায়ে গ্রামের মানুষ তার মায়ের জানাজা পড়াতে রাজি হয়নি। শেষে বাড়ির কয়েকজন লোক মিলে তার মায়ের সৎকার করেন। মূলত এই ঘটনা থেকে মূল বিতর্কের শুরু, মানে ছবি তোলার জন্য ধর্ম অবমাননা। চিন্তা করুণ অাজকের সমাজে ছবি তোলা কত হরহামেশা ঘটনা! এর পরের বিতর্ক ওনার লেখা নিয়ে। যেখানে উনি সৃষ্টিকর্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অাচ্চা বলুন তো অবচেতন মনে কে এই প্রশ্ন করে না? সাহজ করে সবাইকে বলার সাহজ কতজন করেন? নিজের জ্ঞান চক্ষুকে উন্মোচন করে অবচেতন মনের কথা ব্যক্ত করেছেন যে ব্যক্তি সেখানে ধর্ম অালচ্য বিষয় নয়, বিষয় জ্ঞান। তিনি ভাববাদকে মূখ্য না করে বস্তুবাদী হওয়ার চেষ্টা করেছেন জ্ঞান দিয়ে। অার সবথেকে শেষ বিতর্ক মরণোত্তর দেহ দান নিয়ে। মৃত্যুর পর ওনার চক্ষু ও দেহ যেন কোন অসহায় মানুষের কাজে লাগে সেজন্য দেহ দান করেছিলেন অারজ অালী মাতুব্বর। অাপনি এই কাজকে ধর্ম দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন না, কারণ মানবতাকে অস্বীকার করতে কেও পারবে না। এ-জন্য অালোচনার শুরুতে বলেছি এ-জগত জ্ঞানের জগত।
অারজ অালী মাতুব্বর রচনাসমগ্রঃ-
অারজ অালী মাতুব্বরের মোট গ্রন্থ সংখ্যা ১৫ টি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেখা সত্যের সন্ধানে প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। তারপর সৃষ্টির রহস্য প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। অনুমান ১৯৮৩ সালে ও স্মরণিকা প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। এই লেখাগুলো সহ অারজ অালী মাতুব্বরের সমস্ত লেখাগুলো এখন অারজ অালী মাতুব্বর রচনাসমগ্র নামে প্রকাশ করে থাকেন পাঠক সমাবেশ থেকে।
রচনাসমগ্র এক এ সত্যের সন্ধানে গ্রন্থটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। যেখানে অতি সাধারণ কিছু প্রশ্নকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন। অলৌকিক জগৎ সম্পর্কে মানব মনের প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন লেখক। তিনি প্রশ্ন করেছেন এবং নিজে সরাসরি উত্তর দেন নি, তিনি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন ভাববাদ বিশ্বাসী মানুষদের কাছ থেকে। প্রশ্নগুলো সব ধর্মের জন্য অতি সাধারণ। বিশেষ কিছুর সাথে মিল খোঁজাটা বোকামি বৈ অন্য কিছু নয়।
বইয়ের সূচিপত্র লক্ষ করলে পাওয়া যায় সত্যের সন্ধান এবং লৌকিকদর্শন বিষয়ক প্রশ্ন কেন করেছেন তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। এবং তারপর একে একে প্রশ্নগুলো প্রস্তাব করে গেছেন মাতুব্বর সাহেব।
প্রথম প্রস্তাব – [আত্মা বিষয়ক]
দ্বিতীয় প্রস্তাব – [ঈশ্বর বিষয়ক]
তৃতীয় প্রস্তাব – [পরকাল বিষয়ক]
চতুর্থ প্রস্তাব – [ধর্ম বিষয়ক]
পঞ্চম প্রস্তাব – [প্রকৃতি বিষয়ক]
যে মানুষটি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন শুধুমাত্র বই পড়ে, সেই মানুষটির প্রশ্ন জিজ্ঞাসা গুলো কেমন হয় একটু জেনে দেখা দরকার। জানার নতুন অনেক মাধ্যম এসেছে। বাজারে অনেক বইপত্র এসেছে। বইয়ের প্রাপ্তি সহজ হয়েছে। কিন্তু একজন অারজ অালীর মতো বই পড়ুয়া নতুন কোন মানুষের জন্ম হয়নি এদেশে।
অারজ অালী রচনাসমগ্র দুই নং খন্ড
এই খন্ডে অাছে তার সৃষ্টি রহস্য লেখাটি। মূলত সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়ে ওনার জ্ঞান সংকলন এখানে বর্ণনা করা অাছে। সৃষ্টি রহস্য যতটা ওনার লেখা তার থেকে অনেক বেশি ওনার জ্ঞানের সংকলন। সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়ে বিভিন্ন বইয়ের নানা রেফারেন্স সহ উনি তুলে এনেছেন। মূলত বিজ্ঞান সম্মত বিষয় এখানে অালোকপাত করা হয়েছে।
এই খন্ডের শেষে ওনার বিভিন্ন বক্তব্য, এবং চিঠিপত্র সহ বিভিন্ন কিছু তুলে ধরা হয়েছে। ওনার লাইব্রেরি পরিচালনা, তার খরচের হিসাব সহ বিভিন্ন বিষয়, যা একজন অারজ অালীকে জানতে অনেকাংশে সাহায্য করে।
তিন নং খন্ড নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। কারণ এখানে যা অাছে তা একজন অারজ অালীকে জানতে অবশ্যই পাঠ্য। মূলত তাকে যারা জানতে চান, তিনি কি করতেন, কি করেছেন, কিভাবে বেড়ে উঠেছেন সে সবকিছু অাছে এই খন্ডে। ভিখারির আত্মকাহিনী মূলত একজন অারজ অালীর জীবন কাহিনী। জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শনে যার অঢেল অর্জন তার ব্যক্তি জীবন অজানা থাকলে অনেক কিছুই জানার বাইরে চলে যাবে। একজন অারজ অালীকে অজানা থাকলে, ওনার লেখা গুলো রিলেট করা সহজ হবে না। সুতরাং তিন নং খন্ডটি এরিয়ে যাওয়ার সূযোগ নেই। উপরন্তু বলা যায় সবার অাগে পড়া উচিত এই ভিখারির আত্মকাহিনী।
তিন খন্ডের অারজ অালী রচনাসমগ্র হলো পূর্ণাঙ্গ মাতুব্বর প্যাকেজ। মানে ব্যক্তি অারজ অালী থেকে শুরু করে তার লেখা, কাজ সবকিছু। বিশেষ করে তার সংগ্রামী বই পড়ুয়া জীবনের গল্প। যে জীবনে বই সহজলভ্য ছিলো না, কিন্তু অদম্য ইচ্ছে শক্তি ছিলো। যে সম্পূর্ণ নিজের শক্তি জোরে নিজেই এক জ্ঞানের জাহাজ। এখানে জ্ঞান অালোচনা হবে, কিন্তু সময়কে ভুলে গেলে চলবে না।
স্বশিক্ষিত কিছু মানুষ কেবল অর্জিত জ্ঞানেই রচনা করেছেন অাপন মেধার ভূবন। কুসংস্কার,
অজ্ঞতা, ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লিখে যেতে পেরেছেন। কিন্তু অামরা এইসব মানুষ গুলোকে জানলাম না, পড়লাম না তাদের লেখাগুলো।

আজকে আমরা আপনাদের কে চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ PDF Download | Chaitanya Charitamrita Book in Bengali PDF Download লিংক দিয়েছি।

ADR Dider

This is the best site for all types of PDF downloads. We will share Bangla pdf books, Tamil pdf books, Gujarati pdf books, Hindi pdf books, Urdu pdf books, and also English pdf downloads.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page