Bangla uponnas Book PDF

(All) Krishnendu Mukhopadhyay books PDF Download | কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় PDF Download

আজকে আমরা আপনাদের অতি অনুরোধ এর বই Krishnendu Mukhopadhyay books PDF Download | কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় PDF Download লিংক নিয়ে এসেছি।

Krishnendu Mukhopadhyay books PDF Download | কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় PDF Download

সুখ অসুখ – কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Sukh Asukh pdf by Krishnendu Mukhopadhyay

Download link 1orDownload link 2orDownload link 3

মায়া ভিলা – কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Maya Villa pdf by Krishnendu Mukhopadhyay

Download link 1orDownload link 2orDownload link 3

সেনোরিটা (১৮+ সাইকো থ্রিলার) – কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Senorita (18+) – Krishnendu Mukhopadhyay

Download link 1orDownload link 2orDownload link 3

অচেনা স্রোত – কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Achena Srot – Krishnendu Mukhopaddhay

Download link 1orDownload link 2orDownload link 3orDownload link 4

পঞ্চাশটি গল্প – কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Krishnendu Mukhopadhyay Ponchashti Golpo

Download link 1orDownload link 2orDownload link 3orDownload link 4orDownload link 6
orDownload link 7orDownload link 8

বইয়ের নাম : আদর্শ হিন্দু হোটেল
লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ধরণ : চিরায়ত উপন্যাস
প্রকাশনী : গদ্যপদ্য
মূল্য : ২৫৫ টাকা
পৃষ্ঠা : ১৭২
ভাবছো, বেঁচে আছো অক্সিজেনে? তোমার লাফালাফি করা ঐ হৃৎপিণ্ডটি কী তোমার জীবনের প্রতীক!
তাহলে বলি, তোমার যদি বেঁচে থাকার প্রেরণা না থাকে তবে অক্সিজেন, হৃৎপিণ্ডের কী কাজ?
এঁড়োশালের হাজারী একজন অভিজ্ঞ রাঁধুনি। বয়সে ৪৫-৪৬ হবে, তবে মনে প্রচুর জোড়। মানসিকতার ক্ষেত্রে বিশেষে সে এখনো যুবক। সে দারুণ পরিশ্রমী, সত্যবাদী এবং স্বচ্ছ চিন্তভাবনার মানুষ। ভূলো মানুষ সাধারণত সহজ-সরল হয়। সেও একই প্রকৃতির।
হাজারি ঠাকুরের দুটো দৈবপ্রাপ্ত স্বর্ণের হাত আছে। রাণীঘাটসহ বেশদূর অব্দি হাজারির রান্না প্রশংসিত হয়ে আসছে। এই কারণেই রাণীঘাটে তাদের বেশ রমরমা ব্যবসা চলে বছরব্যাপী। ভোজন শেষে যখন আরোহীরা তাদের পদের সুনাম করে তখন সে আনন্দের সাথে শুনে, শুনতে বেশ ভালো লাগে তার। সারাদিন ঘরে উনুনের তাপে সিদ্ধ হয়ে খদ্দেরদের মুখে দু-একটা প্রশংসা শুনতে সে বেশ উপভোগ করে। সাতটাকা বেতনে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ শুরু করেছিলো হাজারি। বেতনের তেমন উন্নতি না হলেও তার এ নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিলো না। বেচু চক্কত্তি, পদ্মাঝিকে সে খুবই শ্রদ্ধা করে। হাজারি নেহাত ভালো মানুষ হলেও হোটেলেও ম্যানেজার পদ্মাঝি তাকে দু চক্ষে দেখতে পারে না। হাজারির উপর সকালবিকাল শাসানো তার নিত্যদিনের কাজ। হাজারি পদ্মাঝিকে অজানা কারণে প্রচুর ভয় পায়, কেন পায়? এর উত্তর তার কাছে নেই। তবে, মাঝে মাঝে পদ্মাঝি হাজারির নামে ব্যাপক নালিশ করলে মালিক এক কথায় তা বিশ্বাস করে। তবে, হাজারির মন একদম ভোরের আলোর মতো পরিষ্কার, সেখানে একফোঁটাও অস্বচ্ছতা নেই! সে কারো ওপর রাগ করে না। কর্তাবাবু, পদ্মাঝি তার উপর অন্যায় বিচার করলেও তাতে হাজারির বিন্দু পরিমাণ সম্মান কমে না। হাজারহোক তারাই তো তার ত্রাণকর্তা! হাজারি দুপুরে হোটেলের খাবার শেষ হলে আড়াই ঘন্টার একটি ছুটি পায়। বেশিরভাগ সময় সেই সময়টুকু হাজারি চূর্ণির পাড়ে একগাছের তলায় বসে কাটায়। তখন তার মনে অনেক ভাবনা এসে জমা হয়। তার অনেকদিনের স্বপ্ন সে নিজের একখানা হোটেল দিবে। হোটেল কিভাবে পরিচালনা করতে হয় তা হাজারি দেখে দেখে শিখে নিয়েছে। বেশ পারবে চালাতে! হোটেলে সে নিজেই রান্না করে খাওয়াবে খদ্দেরদের। বেচু চক্কত্তির মতো পঁচা মাছ খাওয়াবে না, একদম টাটকা মাছ খাওয়াবে। অনেক অনৈতিক কাজ করে পদ্মাঝি (যেমন – পঁচা মাছে কেনা) হোটেলে, হাজারি তা দেখলেও কিছু বলে না। তবে সে যদি নিজের একখানা হোটেল তৈরি করতে পারে তাহলে সে কোনো অসৎ উপার্জন করবে না। তবে শহুরে এলাকায় হোটেল খুলার টাকা সে পায় কই? কম করে হলেও ২০০-৩০০ টাকা লাগবে হোটেল খুলতে। মাসে সাত টাকার মাইনে দিয়ে হোটেল খুলার স্বপ্ন হাস্যকর।
টেঁপ হাজারির একমাত্র মেয়ে। তার মা সন্তানদের নিয়ে এঁড়োশালে থাকে, রাণীঘাট থেকে অনেক দূর। অনেক সময়ের পথ। রাণীঘাটে হাজারির এক ধর্মকন্যা আছে। নাম তার কুসুম। কুসুম হাজারিকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করে। ২৪-২৫ বছরের কুসুমের স্বামী মারা গেছে। সে তাদের বাড়িতে থাকে ছেলেমেয়ে আর শাশুড়ি নিয়ে। হাজারি তার পিতৃতুল্য। হাজারি তাদের বাড়িতে আসলে তার আপ্যায়ন করতে উঠে লাগে সে। হাজারি হোটেল থেকে কুসুমের জন্য কিছু পাঠালেই তা হয়ে যায় চুরি। অথচ পদ্মঝি নিজে হোটেলে থেকে এটা ওটা নিয়ে যায়। হাজারি কখনো কিছু বলে না। প্রতিবাদ করার সাহস তার নেই। সে স্বপ্ন দেখে একদিন তার নিজের হোটেল হবে। সে নিজে হোটেলের মালিক চাকরদের আদেশ দিচ্ছে। বাহ! স্বপ্ন যে কতো সুন্দর!
তবে, একদিন হোটেল থেকে থালা বাসন চুরি হয়ে যায়( হাজারি হোটেলেই থাকে, সাথে থাকে একজন চাকর)। চুরির দায়ে হাজারির জেল হয়। অথচ সে নির্দোষ। সাথে সাথে হাজারির চাকরিও চলে যায়। সে কতো স্বপ্ন দেখেছে হোটেলের রান্না ঘরে যে তারও একদিন এরকম হোটেল হবে। তবে, তার স্বপ্ন চোখের সামনেই চুরমার হয়ে যায়। জেল খাটাতে বাজারে আর তার চাকরি হবে না। রাঁধুনি ছাড়া সে আর কিছু পারে না। পরিবারকে খাওয়াতে হবে কাজ না করলে কী করে খাওয়াবে সে। তাই সে লেগে পড়ে চাকরি খুঁজতে। তার মনে বিশ্বাস, চোখে প্রত্যয় তার একদিন হোটেল হবে, আদর্শ হিন্দুর হোটেল। তবে তার স্বপ্ন কী পূরণ হয় বইটি পড়ে জেনে নিন।
বিভূতিভূষণ সমাজকে যে কতো ভালো করে বুঝেন তা তার কয়েকটি লেখনির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়। ” আদর্শ হিন্দু হোটেল ” উপন্যাসেও তিনি সমাজকে এঁকেছেন নৈপুন্যতার সাথে। সমাজ সম্পর্কে তাঁর বিশেষ জ্ঞান পাঠকে মুগ্ধ করে। আদর্শ হিন্দু হোটেল ব্যাপারটা কিন্তু খুবই চমৎকার তা বইটি না পড়লে বোঝা যাবে না।

বই : একজন কমলালেবু
লেখক : শাহাদুজ্জামান
প্রকাশনা : প্রথমা প্রকাশনী
পাতা সংখ্যা : ২৪২
জীবনানন্দের শরীরের অবনতি ঘটছে শুনে সঞ্জয় অবশেষে দেখতে এলেন হাসপাতালে। জীবনানন্দ চোখ মেলে দেখলেন সঞ্জয়কে। সঞ্জয়ের হাতটা নিজের নিজের গালের উপর রাখলেন তিনি। জড়ানো গলায় বললেন, ‘ একটা কমলালেবু খেতে পারব? ‘ জীবনানন্দ একবার ‘কমলালেবু ‘ নামে একটা কবিতা লিখেছিলেন :
“একবার যখন দেহ থেকে বা’র হ’য়ে যাব
আবার কি ফিরে আসবো না আমি পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে।”
মৃত্যুপথযাত্রির চোখে উজ্জ্বল টইটুম্বুর কমলা জীবনের মহমানতারই আহ্বান। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবনানন্দ যখন একটা কমলা খেতে চাচ্ছেন। তখন তিনি নিজেই মুমূর্ষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়ে মৃত্যুর পরের তার কাঙ্ক্ষিত কমলারুপী নিজেকেই খুঁজছিলেন যেন তিনি৷
অন্নদাশঙ্কর জীবনানন্দকে বলেছেন– শুদ্ধতম কবি, মার্কিন গবেষক ক্লিনটন বি সিলি বলেছেন– A Poet Apart, বুদ্ধদেব বসু তাকে বলতেন– নির্জন কবি, বিনয় মজুমদার ডেকেছেন– ধূসর। আর শাহাদুজ্জামান এবার জীবনানন্দকে ডাকলেন সম্পূর্ণ এক নতুন নামে ‘একজন কমলালেবু’ বলে। কেন এই এই নামকরণ? কেন এই নামে ডাকা?
জীবনানন্দ দাশের ” কমলালেবু ” কবিতাটি থেকেই শাহাদুজ্জামান উপন্যাসটির নামকরণ করেছেন। সেটা পাঠক প্রথমে বুঝতে না পারলেও উপন্যাসটির শেষের দিকে বুঝতে পারবে অনায়াসেই। এ কারণেই শুধু নয়, জীবনানন্দের জীবনটাও বুঝি কমলালেবুর মত গোল,চক্রাকার, অস্থায়ী।
শাহাদুজ্জামান বলেন যে, শৈশব থেকে জীবনানন্দের যে ভূত আচ্ছন্ন হয়ে তার উপর আছর করেছে; সেই ভূতকেই যেন নিজে ওঝা হয়ে নামাতে চান ‘একজন কমলালেবু’ লেখার মাধ্যমে।
শাহাদুজ্জামান জীবনানন্দ আবিষ্কারে নেমেছেন। পড়ে ফেলেছেন জীবনানন্দের সকল সাহিত্য কর্ম।
একজন কমলালেবু’র পেছনে গ্রন্থপঞ্জি ঘাঁটলে দেখা যায় জীবনানন্দ নিয়ে আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যেকোন ধরনের লেখাই তার রেফারেন্স থেকে বাদ যায়নি। এ থেকে বুঝা যায় জীবনানন্দের জীবনের ঘোরতর জটিলতা আর রহস্য আবিস্কারের পর তিনি একটা সাহিত্য কর্মে হাত দিয়েছেন। মাঠে অভিজ্ঞ কৃষকের ধান লাগানোর মত একদম পরিপাটি আর গুছালোভাবে জীবনানন্দের জীবনকে রোপণ করেছেন উপন্যাসের পাতায়।
“বরিশালের নদী, জোনাকি ছেড়ে তাঁকে পা রাখতে হয়েছে আদিম সাপের মত ছড়িয়ে থাকা কলকাতার ট্রামলাইনের ওপর। পৃথিবীর দিকে তিনি তাকিয়েছেন বিপন্ন বিস্ময়ে। বলেছেন সন্ধ্যার সব নদী ঘরে ফিরলে থাকে অন্ধকার এবং মুখোমুখি বসবার নাটোরের এক নারী। জানিয়ে দিয়েছেন জ্যোৎস্নায় ঘাইহরিণীর ডাকে ছুটে আসা, শিকারীর গুলিতে নিহত হরিণের মত আমরা সবাই। সস্তা বোর্ডিংয়ে উপার্জনহীনভাবে দিনের পর দিন কুঁচো চিংড়ি খেয়ে থেকেছেন। তবু পশ্চিমের মেঘে দেখেছেন সোনার সিংহ। পিঁপড়ার মত গুটি গুটি অক্ষরে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ভরেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ডায়েরি লিখে। সেগুলোর সামান্য শুধু জনসমক্ষে এনেছেন জাদুকরের রুমালের মত, বাকিটা গোপনে তালাবন্দী করে রেখেছেন কালো ট্রাঙ্কে।
বাংলা সাহিত্যের প্রহেলিকাময় এই মানুষ জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে এক নিবিড় বোঝাপড়ায় লিপ্ত হয়েছেন এ সময়ের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান তাঁর “একজন কমলালেবু” উপন্যাসে।”
শাহাদুজ্জামান জীবনানন্দের রহস্যজনক ট্রাম দূর্ঘটনার মধ্যে দিয়েই উপন্যাসটি শুরু করেন। জীবনানন্দের ডায়েরী ঘেটে তার বিশ্লেষণ করেন।
জীবনানন্দ বুঝি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন ট্রাম্প দূর্ঘটনার মধ্যে দিয়েই চলে যাবেন আমাদের ছেড়ে। কারণ তার একটা কবিতা এমন :
“কলকাতার ফুটপাত থেকে ফুটপাতে- ফুটপাত থেকে ফুটপাতে-
কয়েকটি আদিম সর্পিণী সহোদরার মতো এই যে ট্রামের লাইন ছড়িয়ে আছে
পায়ের তলে, সমস্ত শরীরের রক্তে এদের বিষাক্ত বিস্বাদ স্পর্শ অনুভব করে হাঁটছি আমি।”
এটা দূর্ঘটনা? নাকি আত্মহত্যা? অথবা হত্যাকাণ্ড।
এই রহস্য এখনও ধোঁয়াশায় রয়ে গেল।
১৮৯৯ সাল। বরিশালের বগুড়া রোড আর গোরস্থান রোডের কোনার বাড়িতে কুসুমকুমারীর কোলে জন্মনিলেন জীবনানন্দ দাশ। ডাক নাম মিলু। জীবনানন্দ কুসুমকুমারীর প্রথম সন্তান। হয়ত সে ছেলের দিকে তাকিয়েই তিনি লিখলেন:
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে,
মুখে হাসি, বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হয়তে হ’বে -এই তার পণ।
জীবনানন্দ দাশ মায়ের এই কবিতার ছেলে প্রকৃতপক্ষে হতে পারেননি। তিনি জীবনের শুরুতেই মাত্র কয়েক নাম্বারের জন্য ফার্স্ট ক্লাস পাননি যা তাকে পুরো জীবন ভুগিয়েছে। চাকরি করতে গিয়ে বারবারই নিজের যোগ্যতার চাইতে বাবার সুপারিশ বা কারো অনুকম্পার বদৌলতে শিক্ষকতাকেই পেয়েছেন যদিও কখনো কীর্তিমান বা জনপ্রিয় শিক্ষক হতে পারেননি। একবার পেয়েছিলেন সংবাদপত্রের চাকরি যা তিনি নিজেই করতে পারেননি; ছেড়ে দিয়েছেন অন্য আর সব চাকুরির মত!।
জীবনানন্দের ছোট বেলাতেই হলো জণ্ডিস। টানাপোড়েনের সংসারে চিকিৎসা যেন বিলাসিতা। তবুও ছেলেকে বাঁচাতে কুসুমকুমারী গেলেন কলিকাতায়। জীবনানন্দ সুস্থ হলেন। পা দিলেন কৈশোরে।
কুসুমকুমারী দাশ জীবনানন্দকে মাঝে মধ্যেই কবিতা লিখতে বলতেন। কিন্তু জীবনানন্দ লিখতেন না। কবির ছেলেকে কবি হতেই হবে এমন কোন গণিত নেই। ১৯১৯ বয়স যখন বিশ তখন জীবনানন্দের প্রথম কবিতা প্রকাশ হলো ব্রাম্মবাদী পত্রিকায়। অনেকটা মায়ের নির্দেশেই তিনি কবিতাটি লিখেছিলেন।
তারপর দীর্ঘ বিরতি। আর কিছুই লেখেননি। এরমধ্যে জীবনানন্দ পাশ করেছেন এমএ। ১৯২৫ সালে হুট করে একটা কবিতা লিখলেন। রাজনৈতিক কবিতা। প্রকাশ হলো “বঙ্গবাণী”র বিশেষ সংখ্যায়।
এভাবেই শাহাদুজ্জামান তার “একজন কমলালেবু “উপন্যাসে জীবনানন্দকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। বইটিতে জীবনানন্দের কবিতাগুলোর পোস্টমর্টেম করেছেন তিনি। গল্প, উপন্যাসগুলোর বাখ্যা বিশ্লেষণ করে জীবনানন্দের এ আবিস্কার অসাধারণ শৈল্পিকভাবে করেছেন শাহাদুজ্জামান। জীবনানন্দের রেখা যাওয়া ডায়েরি থেকে পেয়েছেন অনেক তথ্য। তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে এসে দাড়িয়েছেন একটা সিদ্ধান্তে।
ব্যক্তি হিসাবে জীবনানন্দ মিশুক ছিলেন না। অর্থহীন কথার, আর হাসিতামাশার আসরে কোনদিন স্বাচ্ছন্দবোধ করেননি তিনি। মানুষের সাথে ভাব জমানোর দক্ষতা অর্জন করতে পারেননি কোনদিন৷ অন্তর্মুখী চরিত্রের অধিকারী যেমন ছিলেন তেমনি বাকপটু বা সুদর্শনও ছিলেন না; ফলে তার চারপাশের নিয়ন্ত্রণ তার নিজের ওপর কখনই ছিলনা। তিনি সে সময় যেসব কবিতা লিখেছেন পাঠক সেগুলো নিতে পারেনি। পাঠক খুব অল্পই তৈরী হয়েছিল তার।
১৯২৭ সালে সম্পূর্ণ নিজের খরচ প্রকাশ করলেন “ঝরা পালক ” কাব্যগ্রন্থ। উৎসর্গ পৃষ্ঠায় লিখা ছিলো “কল্যাণীয়াসুকে”। এই কল্যাণীয়াসু ছিলেন তাঁর কাকাতো বোন শোভনা দাশ ওরফে বেবী।বেবীর সাথে তার ক্ষণকালের সুতীব্র প্রেম ছিলো তার। সেই প্রেমে সারাজীবন পুড়েছেন জীবনানন্দ।ডায়েরিতে বেবীকে নিয়ে অজস্র লিখার সন্ধান পাওয়া যায়।মজার ব্যাপার হচ্ছে হচ্ছে শোভনা ওরফে বেবীকে তিনি ডায়েরি তে ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরে লিখেছেন।
“একদিন খুঁজেছিনু যারে
বকের পাখার ভিড়ে বাদলের গোধূলি-আঁধারে,
মালতীলতার বনে,- কদমের তলে,
নিঝুম ঘুমের ঘাটে,-কেয়াফুল,- শেফালীর দলে!”
এভাবেই সারাজীবন শোভনাকে খুঁজেছেন। কিন্তু পাননি।
“ঝরা পালক ” নিয়ে রবীন্দ্রনাথ কটাক্ষ করেছিলেন। হয়েছিল সমালোচনা। পাঠক প্রিয়তাও পায়নি একদম। তখন তার কবিতার একমাত্র বন্ধু বুদ্ধদেব বসু।
তিনি বিয়ে করেছিলেন শিক্ষিতা, ইডেন পুড়ুয়া লাবণ্যকে। মোটামুটি পরিবারের পছন্দেই, নিজের পছন্দ “শোভনা” তখন তার জীবন থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে, ধরাছোঁয়ার বাইরে, যদিও সারাটা জীবন সেই স্মৃতি নিয়েই কাটিয়েছেন। যে স্মৃতিকে ভুলে নতুন করে ভালোবাসার জগত তৈরী করতে চেয়েছিলেন, বিয়ের পরপরই হঠাৎ করে চাকরি চলে যাওয়া, নিজের জগতের মাঝে স্ত্রীকে না জড়াতে পারা বা শিক্ষিত ও প্রগতিশীল স্ত্রীকে নিজের মত ভাঙতে গড়তে না পারা – সবমিলে বেকার প্রায় ৫ বছর তাকে বানিয়েছে অন্য মানুষ। অস্বাভাবিক এক বাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার মাঝে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ক্ষুধায় চড়ুইয়ের খাবারেও ভাগ বসাতে চেয়েছেন, হেন চাকুরি বা ব্যবসা নেই যার সম্ভবনার কথা ভাবেননি। জীবনে বারবার দারিদ্রতা তার থাবা বসিয়েছে; তিনি একটি চাকরির জন্য, সামান্য অর্থের জন্য অনুজের কাছে গেছেন, অকবিদের কাছে গেছেন। কিন্তু কিছুই তাকে ধরা দেয়নি। ফলে সময়ের স্রোতে তিনি আর স্বাভাবিক থাকেননি; খুব রুঢ়ভাবে বুঝেছেন দারিদ্রকে, জীবনে না পাওয়ার কষ্টকে; সুহৃদহীন এক অনন্ত একাকী জীবন। যার জন্য খেতাব পেয়েছেন “নির্জনতার কবি” হিসেবে। নানা বোধ খেলা করেছে তার মনে। অনি:শেষ অনুভূতির সাগরে ভাসতে ভাসতে শেষে আবিষ্কার করেছেন তার চেতনাকে; তাকে বলেছেন “বিপন্ন বিষ্ময়”!
জীবনানন্দ সংসারের কোন কাজেই দক্ষ ছিলেন না। ছেলেমেয়েদের জন্য করতে পারেননি তেমন কিছুই, লাবণ্যের ভাষ্যে শুধু “নিখুঁত করে পেন্সিল কেটে দেয়া” ছাড়া! লাবণ্য তার জীবনে কোন লাবণ্য আনতে পারেননি কিন্তু জীবনানন্দের জীবনে আর কোন নারী আসেনি।
জীবনানন্দের সারাটি জীবন কেটেছে মানুষের অবহেলা, বিদ্রুপে। প্রেমে, দাম্পত্যে, সাহিত্যে কর্মজীবনে চরম ব্যর্থতায় জর্জরিত তিনি। ব্যক্তি আক্রমণের স্বীকার হয়েছন বহুবার। সজনীকান্ত নামক এক সমালোচক জীবনানন্দের কবিতা নিয়ে কম হাসিহাসি করেননি। তাকে বলা হয়েছে পাগল। এমনকি তার লেখাকে অশ্লীলও বলা হয়েছে। সাহিত্যে যখন তখনকার কবিরা এগিয়ে যাচ্ছেন অর্থ নাম, যশ, খ্যাতি অর্জন করছেন তখন জীবনানন্দ দেখেছেন পৃথিবীতে অদ্ভুত এক আধার। লিখেছেন :
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
কেউ বুঝেনি তাকে৷ তবুও জীবনানন্দ সাহস হারাননি। আজ না হক মৃত্যুর পর তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে আলোড়িত করবে বিশ্বকে। লিখেছেন,
“সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে— এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ-বাতাস কি পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় তত দূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গ’ড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।”
কিন্তু মৃত্যুর পর খ্যাতি, নাম কি উপকার আসবে তার জীবনানন্দ তার এক কবিতায় লিখেছেন,
“মানুষটা মরে গেলে যদি তাকে ওষুধের শিশি
কেউ দেয়-বিনি দামে -তবে কার লাভ -“
সজনীকান্ত জীবনানন্দকে সবচেয়ে বিদ্রুপ করেছেন,তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, অপমান করেছেন। জীবনানন্দের কবিতার সমালোচনা করেছেন। অশ্লীলতার তকমা লাগিয়েছেন। সেই সজনীকান্ত জীবনানন্দের সবচেয়ে নাজুক সময়ে এসে বললেন, ” আমি কি জানতাম জীবনানন্দ বাবু কত বড় মানুষ, কত বড় কবি। নইলে শুধু তার কবিতা নিয়ে এত কথা বলার তো দরকার হত না আমার “।
ট্রামের ক্যাচারে আটকে যাওয়ার মতো সেই দুর্ঘটনা এর আগে কখনো হয়নি এমনকি তার পরেও নয়। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ডাক্তার জীবনানন্দকে মৃত ঘোষণা করলে সঞ্জয় ভট্টাচার্য লিখেন, ‘একটি জাহাজ ছেড়ে গেল…।’
ঘোর এক রহস্য রেখে গেলেন জীবনানন্দ। শাহাদুজ্জামান বলেন,
শূন্যে অবশ্য ভেসে রইলো অমীমাংসিত সেই জিজ্ঞাসা,জীবনানন্দের মৃত্যু তাহলে কী——
দুর্ঘটনা?
আত্মহত্যা?
নাকি হত্যাকান্ড?
যার পেছনে রয়েছে অনেকের অদৃশ্য হাত?

See also  লাল সন্ত্রাস মহিউদ্দিন আহমেদ pdf download | lal sontrash pdf download

আশা করি আপনাদের অনুরোধের বই Krishnendu Mukhopadhyay books PDF Download | কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় PDF Download লিংক পেয়ে আপনারা খুশি।

ADR Dider

This is the best site for all types of PDF downloads. We will share Bangla pdf books, Tamil pdf books, Gujarati pdf books, Hindi pdf books, Urdu pdf books, and also English pdf downloads.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page