Motivational Book PDF

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা রাগিব হাসান pdf download

আজকে আমরা আপনাদের কে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা রাগিব হাসান pdf download লিংক দিবো।

বইঃ- আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা রাগিব হাসান pdf download

লেখকঃ- রাগিব হাসান

Size:- 3 MB

২০১৬-১৭ সালে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে প্রথম আলোয় বেশ কিছু লেখা লিখেছিলাম। সে লেখাগুলো গুছানো প্রয়োজন। গবেষণার পথ পরিক্রমা নিয়ে, দিকনির্দেশনা নিয়ে তরুণদের জন‍্য আরো বেশি বই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অন‍্যতম সেরা বিজ্ঞান ম‍্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তায় বেশ কিছু লেখা লিখেছিলাম। বিজ্ঞান বিষয়ক অনেক লেখা জমে আছে। সেগুলো গুছানো দরকার। বিজ্ঞান নিয়ে বই লেখা দরকার আরো বেশি। দেশে বিজ্ঞান নেই বিজ্ঞান নেই বলে আমরা ঠিকই চিল্লাই, কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে তেমন লেখা বা বই খুব বেশি প্রকাশিত হয় না। এটা আমাদেরই দোষ!

“স্টকহোম ইউনিভার্সিটির দিনগুলো” নামে যে লেখাগুলো শুরু করেছিলাম ২০১৫-১৬ সালে, সেগুলো গুছানো প্রয়োজন। সে লেখাগুলোতে একটা সমাজের অগ্রগতির বহু কারণ উঠে আসবে। মানুষের চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতির বৈচিত্র‍্যতার কথা উঠে আসবে। পিএইচডি করার সময় আমি শুধু ল‍্যাবরেটরিতে বসে বসে কাজই করিনি—ইউরোপের সমাজ-সংস্কৃতিকে বুঝার জন‍্য অনেক সময় দিয়েছি। সেখানের বহু বিষয় পরখ করার চেষ্টা করেছি। অনেক অনেক গুণীদের সাথে কাজ করেছি। আড্ডা দিয়েছি। সেইসব অভিজ্ঞতাগুলো আমার কাছে ডিগ্রির চেয়ে অনেক বেশি দামী। সেগুলো তরুণদের জানানো দরকার।

বই প্রকাশের জন‍্য সবচেয়ে বেশি সময় যায় লেখা গুছিয়ে পাণ্ডুলিপি তৈরি করায়। বারংবার রিভিউ করা এবং এডিট করায়। ইংরেজিতে যেমন অটোকারেকশন অনেক সাহায‍্য করে, বাংলায় তো সেটা নেই। তাছাড়া, এইসব দেশে চাকরি করে লেখালেখি করতে গেলে নিজের উপর অত‍্যাচার করেই করতে হয়। এছাড়া কোন উপায় থাকে না। সেই অত‍্যাচার নেয়ার শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করছি।
………………

📕 “একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়”-রিভিউ 📑

একটা আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে কোন কোন বিষয়ে ফোকাস রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রের মূল ভিত গড়ে উঠবে কিভাবে। লেখক রউফুল আলম তার লেখা “একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়” বইটির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত শিক্ষা, গবেষণা ও তারুণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখায় তুলে ধরেছেন ৬৩ টি প্রবন্ধের আলোকে। প্রবন্ধগুলো আকারে ছোট কিন্তু তথ্যে ভরপুর ৷ বাংলাদেশের মতো একটা উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গবেষণা ও তারুণ্যের মেধাশক্তি কিভাবে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয় গুলো লেখক তুলে ধরেছেন এই বাইতে। কিভাবে শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও এই প্রতিযোগিতাময় পৃথিবীতে বাংলাদেশ মাথা তুলে দাড়াতে পারবে, দেশের নীতিনির্ধারকেরা ভূল সিদ্ধান্ত কিভাবে একটা দেশ পিছিয়ে পড়ে, শিক্ষক এবং গবেষক নিয়োগে অনিয়ম প্রভৃতি কীভাবে আমাদের Global Competition এ পিছিয়ে দিচ্ছে-বিভিন্ন তথ্য সহ বইটিতে লেখক সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন। এই বই আমার ধ্যান ধারণা অনেকাংশে পাল্টে দিয়েছে। একটা মাস্টার পিস বই বললে ভূল হবেনা। আমার পড়া পছন্দের বইগুলোর মধ্যে একটি।

See also  (All) ঝংকার মাহবুবের বই pdf download | Jhankar Mahbub Books pdf download

পৃথিবীর সব দেশে, সব জাতিতে দুর্নীতি আছে। কম-বেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ও অপচর্চা আছে। তবে যেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যত ক্রুটিমুক্ত, স্বচ্ছ ও আধুনিক, সেসব দেশ ততউন্নত। শিক্ষা যদি হয় একটি জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হলো সে মেরুদণ্ডের কশেরুকা।

গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমরা পিছিয়ে কেন? আমাদের কি মেধাবী ছেলে-মেয়ে নেই? আমাদের কি টাকা নেই? না এর কোনোটাই না। আমাদের দেশটা অসংখ্য মেধাবীতে ভরা। পরিশ্রমী, স্বপ্নবান, উদ্যমী তরুণে ভরা। আমাদের শুধু নেই ব্যাবস্থাপনা। আমরা ৫ টা পদ্মা সেতু করতে পারব, কিন্তু যদি গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে না যাই, তবে দেশটাকে দাড় করতে অনেক সময় লাগবে। টেকশই উন্নয়নের (Sustainable Development) দের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবন হলো অন্যতম শর্ত।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণায় চীন কতদূর চলে গেছে, সেটা অভাবনীয়। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে চীনের ছেলেমেয়েরা। গোটা দুনিয়া থেকে যে জাতিটা শিখছে, সেটার নাম চীন। তাদের অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য। এবং চীন তাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সে জন্য তাদের আছে বহু প্রকল্প। তার মধ্যে জনপ্রিয় একটি নাম ‘সহস্র মেধাবী প্রকল্প’ (Thousand Talents Plan)। সে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শত্রুটির নাম জাপান। অথচ জাপানেও গবেষণা করছে চীনের অনেক শিক্ষার্থী। সারা বিশ্ব থেকে ওরা জ্ঞান ধার করছে। চীন শুধু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ তরুণ আমেরিকায় পাঠায় গবেষনার জন্য ৷যেটাকে তারা বলে ‘Intellectual Scanning’ এবং পরবর্তীতে তারা ঐসমস্ত মেধাবীদের ‘Thousand Talent Plan’ প্রকল্পের মাধ্যমে আবার দেশে ফিরিয়ে আনে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তাদের পেছনে ৷ প্রতি বছর বিভিন্ন শাখায় হাজারো তরুণ গবেষককে স্বতন্ত্র গবেষণা (Individual Research) শুরুর জন্য অর্থ দেয় সরকার। কাজের সুযোগ করে দেয় বিশব্বিদ্যালয় ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। কেউ কাজ করছেন সড়ক নিয়ে, কেউ ঔষধ নিয়ে, কেউ টেক্সটাইল নিয়ে, কেউ কৃষি নিয়ে, কেউ রোবট নিয়ে। এমন বহু ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে নিজস্ব সম্পদ। চীনের সব গবেষক-ই যে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তা নয়। কিন্তু কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্যে ১০ ভাগ ছেলে-মেয়েকেও ফিরিয়ে নেওয়া যায় যথেষ্ট। এই কাজ শুধু চীন নয়, পৃথিবীর বহু দেশ করছে এখন। প্রতিবেশী দেশ ভারতও সে দেশের তরুণদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। দক্ষিণ কোরিয়া, সিংগাপুর, পাকিস্তান তুরষ্ক এইসব দেশও তাদের মেধাবীদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর প্রকল্প চালু করেছে।

See also  [PDF+ePub] Don't Make Me Think PDF Download | Don't Make Me Think ePub Download

পৃথিবীজুড়ে আমাদের মেধাবী ছেলেমেয়েও কম নয়। আমাদের একটা কমন ধারণা দেশের ছেলেমেয়েরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসে না। এই যে ধারণাটা প্রচলিত আছে সেটা ভুল! ভয়ংকর রকমের ভুল! দেশের প্রচুর ছেলেমেয়ে ফিরতে চান। নিজ ইচ্ছায় ফিরতে চান। অনেকেই স্বপ্ন দেখেন নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে তরুণ গবেষক তৈরী করবেন। দেশটাকে গড়বেন। শুধু দেশে থাকার ইচ্ছা থেকে, বহু কিছু বিসর্জন দিয়েই প্রবাস থেকে ফিরতে চান। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে এনে সঠিক জায়গায় নিয়োজিত করার পরিকল্পনা নেই রাষ্ট্রের। বাংলাদেশে এখনো সে রকম কোনো কার্যকর প্রকল্প চালু হয়নি। দক্ষ ও মেধাবী তরুণদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের প্রাপ্য সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষা খাতে ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। তারা তাদের অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও একাগ্রতাকে কাজে লাগাবেন। রাষ্ট্র যদি এমন কাজটি শুরু করে, তাহলে আগামী ৩০ বছরে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণায় আমাদের স্বনির্ভরতা অনেক গুণ বাড়বে।

যে জাতি যেটির মূল্যায়ন করে, সে জাতি সেটিই পায়। আমরা দেশ ভর্তি নেতা পেয়েছি, নেতায় নেতাচ্ছন্ন এক দেশ। আর পশ্চিমা দেশগুলো পেয়েছে পৃথিবী বদলে দেয়া মানুষ। সেখানকার দেশগুলো আমাদের মতো নেতায় আচ্ছন্ন নয় তবে যোগ্য নেতার সংকট হয়না কখনও। আমরা সমগ্র দুনিয়া থেকে কতকিছুই না ধার করি, খাবার সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, যুদ্ধাস্ত্র আরও কত কি! কিন্তু সারা দুনিয়ার শিক্ষা ও গবেষণার সংস্কৃতিটা কেন যে আমরা ধার করি না, অনুসরণ করি না সেটা আজও বুঝিনা। অথচ আমরা ইচ্ছা করলেই সেটা ধার করতে পারতাম, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই বোধটা আজও আমাদের মাঝে জাগ্রত হলো না।

লেখক আমাদেরকে জাপান থেকে শিখতে বলেছেন। মানবসভ্যতার ইতিহাসে জাপান ছাড়া কোন দেশ এত স্বল্প সময়ে, এত ক্ষতির শিকার হয়নি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান যতটা হয়েছে। অথচ সেই যুদ্ধবাজ জাপানিরা যুদ্ধের মনোভাব পরিহার করে শিখতে শুরু করল তার কাছ থেকে যারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর ধ্বংস করেছিল। অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করল জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং গবেষণায়। যার ফলশ্রুতি হিসেবে গত চার দশকে ওরা শুধু বিজ্ঞানেই নোবেল পুরুস্কার পেয়েছে কুড়িটি। এখনও জাপানি সমাজে বিলেত গমন বলতে আমেরিকায় যাওয়াকে বুঝায়। পৃথিবীর সবচেয়ে ভুমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ প্রকৃতিকে বৃদ্ধঙ্গলি দেখিয়ে মৌলিক গবেষণা, আবিস্কার ও উদ্ভাবনে কতটা এগিয়ে যেতে পারে তার বড় উদাহরণ হল জাপান। যারা তাদের হাত এবং মাথা ব্যবহার করতে জানে তাদের আকাশের দিকে হাত তুলে রাখতে হয় না।

See also  বিলিয়ন ডলার স্টার্টআপ pdf Download | Billion dollar startup PDF Download

গবেষণা এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ছাড়া যে, একটা দেশের এগিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার লেখক তার সরল ও প্রাঞ্জল লেখনীর মাধ্যমে ভালোভাবেই পাঠকদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, প্রফেশনাল, দেশের নীতিনির্ধারকদের ও রাজনীতিবিদদের এই বইটি পড়ার উচিৎ। এই বইয়ের মাধ্যমে নিজেকে ও আগামীদিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের অনুপ্রেরণা ও অনেক দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

বইঃ একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়
লেখকঃ রউফুল আলম
প্রকাশনীঃ সমগ্র প্রকাশন
প্রকাশিতঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

হ্যাপ্পি রিডিং

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা রাগিব হাসান pdf download

Click here to download

ADR Dider

This is the best site for all types of PDF downloads. We will share Bangla pdf books, Tamil pdf books, Gujarati pdf books, Hindi pdf books, Urdu pdf books, and also English pdf downloads.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page